মুঈনুল কুরআন মাদরাসা ক্যাম্পাস
শ্রেণিকক্ষে পাঠদান
কুরআন তিলাওয়াতরত শিক্ষার্থী

এক নজরে আমাদের মাদরাসা

মুঈনুল কুরআন মাদরাসা ২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করে এবং ২০১৬ সালে বর্তমান ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত হয়। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই আমাদের লক্ষ্য একটাই — কুরআন ও সুন্নাহর আলোয় আলোকিত, নৈতিকতাসম্পন্ন ও কর্মদক্ষ একটি প্রজন্ম গড়ে তোলা।

ধর্মহীন কর্মশিক্ষা কিংবা কর্মহীন ধর্মশিক্ষা — এ দুইয়ের পরিবর্তে আমরা বিশ্বাস করি কর্মমুখী ধর্মশিক্ষায়। তাই এখানে কুরআন হিফজ ও কিতাবি ইলমের পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি ও গণিতের সাধারণ শিক্ষাও পাঠক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

  • অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকমণ্ডলী
  • আবাসিক ও অনাবাসিক উভয় ব্যবস্থা
  • শিক্ষার্থীপ্রতি বিশেষ যত্ন ও তদারকি
  • মাসিক অভিভাবক সমাবেশ
মাদরাসার শিক্ষার্থীবৃন্দ

সংখ্যায় মুঈনুল কুরআন

এক দশকের পথচলায় শত শত শিক্ষার্থী এখান থেকে কুরআনের আলো নিয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরে দায়িত্ব পালন করছেন।

৩৫০+

বর্তমান শিক্ষার্থী

২৫+

অভিজ্ঞ শিক্ষক

১২

বছরের পথচলা

  • প্রতিষ্ঠাকাল ২০১৩ সাল
  • ৪টি পূর্ণাঙ্গ বিভাগ
  • আবাসিক ও অনাবাসিক
  • এতিম শিক্ষার্থীদের বৃত্তি

শিক্ষা বিভাগসমূহ

শিশুর প্রথম হরফ চেনা থেকে শুরু করে কিতাবি ইলমের উচ্চতর স্তর পর্যন্ত — প্রতিটি ধাপের জন্য আলাদা বিভাগ ও আলাদা শিক্ষক নিয়োজিত রয়েছেন।

০১

নূরানী ও মক্তব বিভাগ

শিশুদের জন্য কুরআন শিক্ষার প্রাথমিক স্তর। সহীহ মাখরাজ, তাজবীদ, প্রয়োজনীয় দোয়া-দরুদ ও নামাজের নিয়ম হাতে-কলমে শেখানো হয়।

০২

নাজেরা বিভাগ

পূর্ণ কুরআন শরীফ শুদ্ধভাবে তিলাওয়াত করার প্রশিক্ষণ। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে আলাদাভাবে শোনা হয় ও ভুল সংশোধন করা হয়।

০৩

হিফজুল কুরআন বিভাগ

অভিজ্ঞ হাফেজ শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে পূর্ণ কুরআন মুখস্থকরণ। নিয়মিত সবক, সাবেক ও আমুখতা পর্যালোচনার সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা রয়েছে।

০৪

কিতাব বিভাগ

আরবি, উর্দু ও ফারসি ভাষার মৌলিক কিতাবসহ ফিকহ, হাদীস ও আকাইদের পাঠদান। পাশাপাশি বাংলা, গণিত ও ইংরেজি সাধারণ শিক্ষা।

কেন মুঈনুল কুরআন মাদরাসা?

সুশৃঙ্খল দ্বীনি পরিবেশ

পাঁচ ওয়াক্ত জামাতে নামাজ, আদব-আখলাকের নিয়মিত পাঠ ও শিক্ষকদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠে শিক্ষার্থীর চরিত্র।

কর্মমুখী সাধারণ শিক্ষা

দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও কম্পিউটারের প্রাথমিক পাঠ — যেন শিক্ষার্থী বাস্তব জীবনেও দক্ষ হয়ে ওঠে।

  • ছোট শ্রেণিতে ব্যক্তিগত যত্ন
  • মাসিক মূল্যায়ন ও অগ্রগতি প্রতিবেদন
  • সাশ্রয়ী খরচে মানসম্মত শিক্ষা
  • এতিম ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি
মাদরাসার পাঠদান কার্যক্রম
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষক

দৈনন্দিন রুটিন

ফজরের আগে জাগরণ থেকে রাতের বিশ্রাম পর্যন্ত — প্রতিটি মুহূর্ত একটি নির্ধারিত ছকে বাঁধা। এই ধারাবাহিকতাই শিক্ষার্থীর ভেতরে গড়ে তোলে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সময়ানুবর্তিতা।

সময় কার্যক্রম
ফজরের পূর্বে তাহাজ্জুদ ও ঘুম থেকে জাগরণ
ফজর – সকাল ৭টা জামাতে নামাজ ও সবক মুখস্থ
সকাল ৮টা – ১১টা শ্রেণি পাঠদান (প্রথম পর্ব)
দুপুর ১২টা – ২টা যোহরের নামাজ, খাবার ও বিশ্রাম
বিকাল ৩টা – ৫টা শ্রেণি পাঠদান (দ্বিতীয় পর্ব)
মাগরিব – এশা সাবেক ও আমুখতা পর্যালোচনা
রাত ৯টা – ১০টা রাতের খাবার ও নিদ্রা
মাদরাসার দৈনন্দিন কার্যক্রম

সুযোগ সুবিধা

শিক্ষার্থীর পড়াশোনা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা — তিনটিকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে ক্যাম্পাস পরিচালিত হয়।

আবাসিক ব্যবস্থা

পরিচ্ছন্ন ও আলো-বাতাসপূর্ণ আবাসিক কক্ষ, প্রতিটি তলায় তত্ত্বাবধায়ক শিক্ষক।

পুষ্টিকর খাবার

চিকিৎসকের পরামর্শে প্রণীত সাপ্তাহিক মেন্যু অনুযায়ী তিন বেলার খাবার।

সমৃদ্ধ লাইব্রেরি

তাফসীর, হাদীস, ফিকহ ও সাধারণ জ্ঞানের বইয়ের সংগ্রহশালা।

চিকিৎসা সেবা

প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে পাঠানোর সহায়তা।

সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা

সিসি ক্যামেরার আওতায় পুরো ক্যাম্পাস ও ২৪ ঘণ্টা তত্ত্বাবধান।

খেলাধুলা ও বিনোদন

সাপ্তাহিক খেলাধুলা, শরীরচর্চা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন।

ভর্তি কার্যক্রম

ভর্তি প্রক্রিয়া

প্রতি শিক্ষাবর্ষের শুরুতে সীমিত আসনে ভর্তি কার্যক্রম চলে। আসন পূর্ণ হওয়ার আগেই যোগাযোগ করার অনুরোধ রইল।

  1. নির্ধারিত ফরম সংগ্রহ করে পূরণ করুন অথবা সরাসরি অফিসে এসে নাম নিবন্ধন করুন।
  2. শিক্ষার্থীর মৌখিক ও লিখিত ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করান।
  3. ফলাফল অনুযায়ী উপযুক্ত বিভাগ নির্ধারণ করা হবে।
  4. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন।

জিজ্ঞাসা ও উত্তর

অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা

নূরানী ও মক্তব বিভাগে ৫ বছর থেকে ভর্তি নেওয়া হয়। হিফজুল কুরআন বিভাগে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীকে নাজেরা সম্পন্ন করা বা সহীহভাবে কুরআন পড়তে জানা প্রয়োজন।

উভয় ব্যবস্থাই রয়েছে। অভিভাবক চাইলে সন্তানকে আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি করাতে পারেন, আবার দৈনিক যাতায়াতের সুবিধা থাকলে অনাবাসিক হিসেবেও ভর্তি করানো যায়।

শিক্ষার্থীর জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি, অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, সদ্য তোলা ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।

হ্যাঁ। আল-মু’ঈন ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে এতিম ও দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের জন্য আংশিক ও পূর্ণ বৃত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। বিস্তারিত জানতে সরাসরি যোগাযোগ করুন।

প্রতি মাসে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শিক্ষকগণ প্রতিটি শিক্ষার্থীর পড়াশোনা, আচরণ ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন।

সরাসরি ক্যাম্পাস পরিদর্শনে আসুন

মিরপুর সিরামিক টেকনো ইসলামিক ট্রেনিং কমপ্লেক্স, ১২/ডি, এভি: ২, সিরামিক রোড, মিরপুর-১২, ঢাকা-১২১৬